Sunday , December 15 2019
Home / SEO / সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) বেসিক ধারণা (নতুনদের জন্য)

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) বেসিক ধারণা (নতুনদের জন্য)

আসসালামু আলাইকুম
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন আপনার জন্যে অত্যন্ত দরকারি হতে পারে যদি আপনি কোন ওয়েবসাইট/ব্লগ পরিচালনা করে থাকেন অথবা ফ্রিল্যান্সিং এ এসইও (SEO) রিলেটেড কাজ করে থাকেন।
ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে এসইও (SEO) এক্সপার্ট বা এ বিষয়ে ভালো ধারণা রাখেন এমন লোকদেরকেই বায়াররা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
তাই ফ্রিল্যান্সিং এ ওয়েব ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে যারা কাজ করছেন তাদের জন্যে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর বেসিক ধারণা থাকা ভালো, আর তাছাড়া যারা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর কাজ করছেন তাদের জন্যে তো খুব গভীর ধারণা থাকা অত্যাবশ্যক।
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি???
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এমন একটা প্রক্রিয়া যেখানে কোন ব্লগ বা ওয়েবসাইটকে (অন পেজ/অফ পেজ) বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সার্চ ইঞ্জিন বান্ধব করে তোলা হয়, যাতে করে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে খোঁজ করলে ঐ ব্লগ/ওয়েবসাইটের পেইজটি প্রথম সারিতে দেখায়।
অন পেজ অপটিমাইজেশন বলতে বোঝায় ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পরিবর্তন এনে সার্চ ইঞ্জিন বান্ধব করে তোলা আর অফ পেজ অপটিমাইজেশন বলতে বোঝায় ওয়েবসাইটের বাহিরে বিভিন্ন কাজ করে সার্চ ইঞ্জিন বান্ধব করে তোলা।
সংজ্ঞাটা হয়তো অনেকটা পাঠ্যপুস্তকের মতো হয়ে গেলো, পরিষ্কার করা যাক ব্যাপারটা।
ধরা যাক একজন আলু ব্যবসায়ী আলু বিষয়ক ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন এবং তিনি চাচ্ছেন কেউ যখন গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনে আলু লিখে সার্চ করবে তখন অন্যসব ওয়েবসাইট/ব্লগ ছাড়িয়ে তার আলু বিষয়ক ওয়েবসাইটটা প্রথম সারিতে দেখাক। এর জন্যে তিনি তার ওয়েবসাইটের ডিজাইনে, কনটেন্ট এ বেশ হেরফের করলেন পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গেস্ট পোস্ট করলেন যেখানে লেখকের পরিচিতিতে তাকে আলু বিষয়ক ওয়েবসাইটের মালিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন অফ পেইজ অপটিমাইজেশন প্রক্রিয়া অবলম্বন করলেন।
এতো কিছু করার পর একটা নির্দিষ্ট সময় পর দেখা গেলো তার ওয়েবসাইট টা গুগলে আলু লিখে সার্চ করলে প্রথম সারিতেই দেখাচ্ছে। নিঃসন্দেহে তিনি বেশ খুশি হলেন, কারণ তার কষ্ট সার্থক!!!
তিনি যদি এই কাজগুলো না করতেন তাহলে হয়তোবা তার ওয়েবসাইটকে গুগল প্রথমে দেখাতো না। এক্ষেত্রে এমন না যে, এই কাজগুলো করলেই গুগল প্রথমে দেখাবে বা এই কাজগুলো না করলে প্রথমে দেখাবে না। বিষয়টা এমন যে, স্কুলে ভর্তি হবার পর হাজারো ছাত্র থাকে, এখানে সবাই ছাত্র কিন্তু সবাইকেই ভালো ছাত্র বলা যায়না, একজন ভালো ছাত্র চেনা-যাবে তার আচার-ব্যবহার, শিক্ষকদের সাথে আর অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক আর ভালো ফলাফলের মাধ্যমে। এভাবেই হাজারো ছাত্রের মধ্যে গুটিকয়েক ভালো ছাত্রকে আলাদা করা যায়।
সম্পর্ক বোঝা যায় লিঙ্ক এর মাধ্যমে
ধরা যাক আলু ব্যবসায়ীর ওয়েবসাইট হচ্ছে ছাত্র, গুগল হচ্ছে শিক্ষক। শিক্ষক তথা গুগল তখনই তার ছাত্রকে ভালো বলবে যখন ছাত্রের সাথে অন্যান্য ছাত্র (সমমনা অন্যান্য ওয়েবসাইট) এর সম্পর্ক ভালো থাকবে, ছাত্র ভালো ও পরিপাটি থাকবে (ডিজাইন) এবং ভালো ফলাফল করবে (কনটেন্ট)। সবগুলো বিষয়ে যখন ছাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকবে তখনই কেবল তাকে সেরা ছাত্র বলবে শিক্ষক। এক্ষেত্রে আলু ব্যবসায়ী তার ওয়েবসাইটে ভালো সাজানো-গোছানো ডিজাইন করেছিলেন, ভালো সম্পর্ক ছিলো সমমনা ব্লগ/ওয়েবসাইটগুলোর সাথে এবং ভালো কনটেন্ট তৈরি করেছিলেন। তাই তার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিন এ প্রথম সারিতে এসেছিলো।
এক্ষেত্রে আলু ব্যবসায়ী তার ওয়েবসাইটকে গুগলে প্রথম সারিতে দেখানোর জন্যে যা যা করেছেন তাই এক কথায় “সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন”
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কেন করবো ???
যারা সবেমাত্র জানতে শুরু করেছেন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ব্যাপারটা তাদের মনে এই প্রশ্নটা জাগা স্বাভাবিক যে “সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কেন করবো?” উপরের গাঁজাখুরি প্যাঁচাল মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকলে প্রশ্নটা মনে জাগার সাথে সাথেই আপনি একটা উত্তর খুঁজে নিয়েছেন, তাও যারা পারেননি তাদের জন্যে আরো খানিকটা বিস্তার করা যাক বিষয়টা।
আবার ফেরা যাক আলু ব্যবসায়ীর প্রসঙ্গে, আপনি কি খেয়াল করেছেন আলু ব্যবসায়ী কেন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করলো??? তিনি এসইও (SEO) করলেন যাতে করে তার ওয়েবসাইট গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে প্রথম সারিতে দেখায়।
কি লাভ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করে ???
লাভ তো একটা আছেই, লাভ ছাড়া কি কেউ কিছু করে ? ধরা যাক, আলু ব্যবসায়ী ওয়েবসাইটে তার আলুর গুণাগুণ তুলে ধরেছেন এবং তিনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তার আলুর প্রচারণা করছেন, এখন যদি মানুষ তার আলুর গুণাগুণে প্রসন্ন হয় তবে তারা আলু কিনবে তার কাছে থেকে, অর্থাৎ তার লাভ হচ্ছে !!! যেহেতু অধিকাংশ ভিজিটর সার্চ ইঞ্জিন থেকেই আসছে সেহেতু সার্চ ইঞ্জিনে তার ওয়েবসাইট প্রথমে না দেখালে খুব বেশি ভিজিটর আসবে না, তাই তার আলুও বিক্রি হবেনা।
অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিনের প্রথমে থেকে ভিজিটর পাওয়াটাই আসলে লাভ, এই ভিজিটর আপনার কাস্টোমার ও হতে পারে আবার আপনার ব্লগের পাঠকও হতে পারে। যাইহোক না কেন, কেউ তার ওয়েবসাইটে টার্গেটেট ট্রাফিক পেতে চাইলেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করবে, আর টার্গেটেট ট্রাফিক পাওয়াটাই লাভ।
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন খুব সহজ !!!
যারা নতুন করে জানতে শুরু করছেন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ব্যাপারটা তাদের কাছে হয়তো আপাতদৃষ্টিতে একে খুব সহজ মনে হচ্ছে, কিন্তু বিষয়টা মোটেও এমন না। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন নিতান্তই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার আর এর কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই যা ফলো করলেই কোন ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিন এ প্রথমে চলে আসবে।
কম্পিটিশন অনেক, আপনি কখনোই হাইলি কম্পিটিটিভ কোন কিওয়ার্ডে প্রথম সারিতে আসতে পারবেন না, আপনি যতই চেষ্টা করুন, সারা বছর সাধনা করুন কিন্তু এমন কিছুই করতে পারবেন না যাতে করে সার্চ ইঞ্জিনে “Google” সার্চ করলে গুগল বিষয়ক আপনার কোন ওয়েবসাইট প্রথমে আসবে, এমনটা সম্ভব নয়। বিষয়টা এমন যে আপনি সারাবছর দৌড়াবেন, প্র্যাকটিস করবেন , কিন্তু উসাইন বোল্টের সাথে আপনাকে ট্র্যাকে নামিয়ে দিলে আপনাকে হারতেই হবে।
তবে চেষ্টা করলে মোটামোটি কম্পিটিটিভ কিওয়ার্ডে প্রথম সারিতে অবস্থান করে নেয়া সম্ভব।আর লো কম্পিটিশন এর কিওয়ার্ডগুলোতে প্রথমে অবস্থান করে নেয়া সবচেয়ে সহজ। সবমিলিয়ে ব্যাপারটা এমন, যে বিষয়ে এসইও (SEO) করা হবে তা আয়ত্তের মধ্যে থাকা আবশ্যক আর যথেষ্ট সময় দিয়ে কষ্ট করতে হবে অনেক, তবেই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্ভব, নয়তো না।
আপনি যদি বুঝতে পারেন বিষয়টা ঠিকমতো তাহলে আপনার কাছে সহজ লাগলেও লাগতে পারে, আর না বুঝলে অনেক কঠিন সাব্যস্ত হতে পারে।

Check Also

মোবাইল ফোনের কারণে কি ক্যান্সার হতে পারে?

না, আজ পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণ করা যায় নি যে মোবাইল এর কারণে ক্যানসার …