Mar 26, 2020
34 Views
Comments Off on করোনাভাইরাস: কী, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে কেন জানা দরকার ?

করোনাভাইরাস: কী, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে কেন জানা দরকার ?

Written by

করোনা ভাইরাস এরইমধ্যে বিশ্বজুড়ে তৈরী করে ফেলেছে এক আতঙ্কের ছায়া। গত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে করোনার আধিপত্য। চীনে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় ছয় হাজার মানুষ। এটি এমন এক মহামারী ভাইরাস যা পুরো বিশ্বকে ফেলেছে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে। কোথা থেকে এল এই ভাইরাস, কী এর লক্ষণ, আর কি এর চিকিৎসা? কৌতুহল জাগতেই পারে আমাদের মনে। তাছাড়া করোনা থেকে বাঁচতে হলে এর সম্পর্কে জানার কোন বিকল্প নেই। চলুন জেনে আসি করোনার বৃত্তান্ত।

বাংলাদেশের জন্যে কতোটা চিন্তার কারণ এই ভাইরাসঃ

১.চীনের উহানের তামপাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রির নিচে ও কাছাকাছি।

২. ইরানে ১০ ডিগ্রির কাছাকাছি।

৩. দক্ষিণ কোরিয়ায়ও ১০ ডিগ্রির অনেক নিচে।

৪. ইতালিতে ১৫ ডিগ্রির নিচে।

অর্থাৎ মোটামুটি ১৫ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা আছে এমন ক্ষেত্রে করোনা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।

কত তাপমাত্রা নিরাপদ?

এ পর্যন্ত প্রায় সব গবেষণা ও বিশেষজ্ঞরা মোটামুটি একমত যে, তাপমাত্র ২১-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে করোনা ভাইরাস টিকতে পারে না। যেমনঃ

১. হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. প্রফেসর জন নিকোলস বলেছেন, সূর্যের আলো, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতায় করোনা টিকতে পারে না। সূর্যের আলো ভাইরাস অর্ধেক ক্ষমতা শেষ করে দেয়। বাকি অর্ধেক ২ থেকে ২০ মিনিট টিকে থাকে।

২. জার্মান সেন্টার ফর এক্সপেরিমেন্টাল এন্ড ক্লিনিক্যাল ইনফেকশন রিসার্স সেন্টারের গবেষক থমাস পিচম্যান বলেছেন, সূর্যের তাপে ভাইরাসটি টিকতে পারে না।

৩. জার্মানির জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনের প্রকাশিত রিসার্সে বলা হয়েছে, ভাইরাসটি ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৫ দিন বাঁচতে পারে। সর্বোচ্চ ২৫ ডি.সে. এ কয়েক দিনের বেশি বাঁচে না।

করোনা ভাইরাস কি?

জানেন কি, সম্প্রতি যে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে সেটা নতুন হলেও এর ইতিহাসটা কিন্তু অনেক পুরানো। ভাইরাসের শ্রেনীবিন্যাস থেকে জানা যায় করোনা ভাইরাস হচ্ছে নিদুভাইরাস শ্রেণীর অন্তর্গত করোনা ভাইরদা নামক পরিবারের একটি ভাইরাস। এটির উপগোত্র হচ্ছে করোনা ভাইরিনা। আর করোনা ভাইরাসের এই প্রজাতিটির নাম হচ্ছে “২০১৯-নভেল করোনা ভাইরাস”।

নভেল করোনা ভাইরাস টি আমাদের কাছে করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত। ল্যাটিন ‘corona’ (মুকুট) শব্দ থেকে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে একে দেখা যায় অনেকটা মুকুটের মত। আর একারণেই এর নাম রাখা হয়েছে ‘করোনা’। এখন পর্যন্ত মোট ৭ ধরনের করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে যা নতুন করে তাদের মধ্যে জীনগত পরিবর্তন করে মানুষকে আক্রান্ত করছে।

এটি মানুষের ফুসফুসকে আক্রান্ত করে এবং সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো সংক্রমিত হয়। ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এর সাথে সার্স এবং মার্স ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

২০০২ সালের সেই সার্স ভাইরাসে তখন প্রায় ৮’শ র মতো মানুষ মারা গিয়েছিল। ২০১২ তে মার্সের প্রভাবে প্রাণ হারায় অসংখ্য মানুষ। সার্স এবং মার্স ভাইরাস করোনা ভাইরাসেরই ভিন্ন প্রজাতি। নভেল করোনা ভাইরাসের আক্রমনে যে রোগ হয় তাকে বলা হয় কোভিড-১৯।

নভেল করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিঃ

সর্বপ্রথম ১৯৬০ এর দশকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে এটি জীনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন নতুন প্রজাতির সৃষ্টি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে চীনের উহান প্রদেশে উৎপত্তি হয় নভেল করোনা ভাইরাসের। গবেষকদের মতে এই ভাইরাস বহনকারী একটি মাংশাসী প্রাণীর দেহ থেকে তা মানুষের দেহে প্রবেশ করে। যা বর্তমানে পুরো পৃথিবীজুড়ে মহামারী আকারে বিস্তার করেছে। এর পরিবারভুক্ত সকল ভাইরাসই ইতিহাসে মহামারী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল।

করোনার ভয়াবহতাঃ

করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসের মাধ্যমে সংক্রমন ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে।  সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। এর প্রভাবে অরগ্যান ফেইলর বা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। এ পর্যন্ত আক্রান্তদের ছয় শতাংশ মারা গিয়েছে এবং দিনকে দিন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে এই মৃত্যুর হার ।

ধারনা করা হয়, এমন মৃত্যুও ঘটেছে যা সনাক্ত করা সম্ভব হয়ে উঠে নি। যতই দিন যাচ্ছে বিশ্বব্যাপি এই ভাইরাসটি ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১১০টি দেশে এটি তার আধিপত্য বিস্তার করেছে। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ছয় হাজার জনেরও বেশি। আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

Article Categories:
Education

Comments are closed.