Powered by Ajaxy
Jan 8, 2021
26 Views
Comments Off on কম্পিউটার নিরাপদ রাখার উপায় ১০ উপায়

কম্পিউটার নিরাপদ রাখার উপায় ১০ উপায়

Written by

কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ট্যাবলেটের মতো যন্ত্রপাতি এখন আমাদের প্রতিদিনেরই সঙ্গী। এগুলোতে থাকে কাজের নানা সফটওয়্যার, দৈনন্দিন কাজের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইত্যাদি। এসবের নিরাপত্তা এখন বেশ বড় সমস্যা। এসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজনেই যুক্ত হয় নানা নেটওয়ার্কে। ফাইল আদান-প্রদান হয়ে থাকে পেনড্রাইভ, বহনযোগ্য হার্ডডিস্ক, সিডি-ডিভিডির মাধ্যমে। ফলে ক্ষতিকর প্রোগ্রাম—ভাইরাস, ওয়ার্ম, ক্ষতিকর ই-মেইল নিজের যন্ত্রটিতে আক্রমণ করতে পারে যেকোনো সময়ই। তাই তথ্যপ্রযুক্তির যন্ত্রগুলো ব্যবহারের সময় ভার্চুয়াল নিরাপত্তা জরুরি। প্রাথমিকভাবে সচেতন থাকলে নিজের কম্পিউটার, স্মার্টফোন থাকবে নিরাপদ।

নিরাপদে কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য রয়েছে বেশ কিছু উপায়। সম্প্রতি প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট টেকনিউজ ডেইলি এক প্রতিবেদনে নিরাপদে কম্পিউটার ব্যবহারের বিশেষ কিছু উপায় জানিয়েছে।

আসুন জেনে নেই কম্পিউটার নিরাপদ রাখার সহজ কিছু উপায়।

ব্যবহার করুন অ্যান্টিভাইরাস
কম্পিউটার নিরাপত্তার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয় অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের ব্যবহার। যদি আপনার কম্পিউটারে সফটওয়্যারটি কার্যকর থাকে, তাহলে বলা যায় কম্পিউটারের নিরাপত্তা প্রশ্নে এক ধাপ এগিয়ে আছেন আপনি। তবে অবশ্যই উচিত হবে উন্নতমানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা। কারণ প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন ভাইরাস। উন্নতমানের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে নিজস্ব ডেটাবেস থেকে নতুন ভাইরাসের খোঁজ নেওয়া এবং সেগুলো থেকে আপনার কম্পিউটারকে রক্ষা করা। আর তাই অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি আপডেট চাইলে অবশ্যই ‘ইয়েস’ চেকবক্সে টিক দিতে ভুলবেন না।

ভিন্ন সাইটে ব্যবহার করুন আলাদা পাসওয়ার্ড
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাসওয়ার্ডের আকৃতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কিন্তু একই পাসওয়ার্ড সব জায়গায় ব্যবহারেই বাড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি। এ জন্য তারা পরামর্শ দেন, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহারের। একই পাসওয়ার্ড একাধিক স্থানে ব্যবহার করলে হ্যাকার সহজেই হ্যাক করতে পারে। যদি আপনিও সব ক্ষেত্রে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন, তাহলে এখনই তা কম্পিউটারের নিরাপত্তার জন্য বদলে ফেলুন।

অদৃশ্য রাখুন ব্যক্তিগত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক
স্ক্যানার কিংবা ল্যাপটপের সাহায্যে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায় আপনার বাসার ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক। অনেকেই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তাতে অনাকাক্সিক্ষত অনুপ্রবেশ বন্ধ করে। তবে এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না নেটওয়ার্কের। এ জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ব্যক্তিগত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক অদৃশ্য করে রাখার। ফলে নিশ্চিত হবে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কটির পূর্ণ নিরাপত্তা।

নিরাপদ চিহ্নের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
ইন্টারনেটের এ যুগে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে অসংখ্য ওয়েবসাইট। সব সাইট নিরাপদ নাও হতে পারে। সাইটগুলোতে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই হ্যাক করা হতে পারে আপনার মূল্যবান আইডি ও পাসওয়ার্ড। বিশেষজ্ঞরা জানান, বেশকিছু চিহ্ন রয়েছে নিরাপদ সাইট চেনার। নিরাপত্তা অবলম্বন করতে ব্যবহারকারীর উচিত এ চিহ্নগুলো জেনে রাখা। এ রকম একটি চিহ্ন হচ্ছে ‘এইচটিটিপিএস’, যা সাইটটি নিরাপদ বলে নিশ্চয়তা দেয়। ব্যবহারকারীরা এ রকম সাইটে প্রবেশ করলে নিরাপদে থাকবে তার কম্পিউটার।

 অটোমেটিক উইন্ডোজ আপডেট চালু রাখা

আমরা অনেকেই অটোমেটিক উইন্ডোজ আপডেট বন্ধ করে রাখি। বিশেষ করে যারা মডেম এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে।

কিন্তু আপনি জানেন কি! মাইক্রোসফট কোম্পানি উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

যদি আপনার অটোমেটিক আপডেট চালু না রাখেন তবে নিরাপত্তার নতুন ফিচারটি আপনি পাবেন না অর্থাৎ আপনার কম্পিউটারে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি কোন কাজ করতে পারবে না।

এই অপশনটি চালু করার জন্য আপনাকে প্রথমে কম্পিউটারের কন্ট্রোল প্যানেলে যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে উইন্ডোজ আপডেট একটি অপশন আছে সেখান থকে অটোমেটিক উইন্ডোজ আপডেট অপশনটি চালু করতে হবে।

অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা

বর্তমানে কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখতে প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয় অ্যান্টিভাইরাসের ব্যবহারকে। আপনার কম্পিউটারে যদি অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করা থাকে তবে ধরে নেবেন আপনার কম্পিউটারটি প্রায় পুরোপুরি নিরাপদে রয়েছে।

অ্যান্টিভাইরাস অনেক ধরণের হয়ে থাকে। বর্তমানে অনলাইনে অনেক ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস রয়েছে, এগুলো ব্যবহারে তেমন ভালো ফল পাওয়া যায় না।

ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস এর সিডি বা ডিভিডি বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করলে অনেক ভালো ফল পাবেন।

উন্নতমানের অ্যান্টিভাইরাস যদি আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করা থাকে তবে সে আপনার কম্পিউটার থেকে খুঁজে খুঁজে ভাইরাস বের করবে এবং আপনাকে নোটিফিকেশন দেবে এবং আপনি খুব সহজে সেগুলোকে ডিলিট করে দিতে পারবেন।

মনে রাখবেন উন্নতমানের প্রোটেকশন পেতে হলে আপনাকে উন্নতমানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে। অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করার পর অবশ্যই অটোমেটিক আপডেট অপশনটি চালু রাখবেন।

পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সতর্কতা

বিভিন্ন কাজের জন্য আমরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট করে থাকি। এতে পাসওয়ার্ড এর ব্যবহার করতে হয়। আমরা অনেকেই খুব সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকি কারণ সহজ পাসওয়ার্ড মনে রাখা সহজ।

কিন্তু এতে ঝুঁকি কিছুটা থেকেই যায়। এই ঝুঁকি এড়াতে একটু শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিৎ। আবার অনেকেই একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যবহার করে থাকে। এতে করে হ্যাকাররা খুব সহজে অন্যান্য অ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক করতে পারবে।

তাই এই ঝুঁকি এড়াতে ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিৎ। পাসওয়ার্ড মনে রাখতে না পারলে আপনার পার্সোনাল ডায়েরীতে নোট করে রাখুন। এটাই সবথেকে উত্তম চর্চা।

 ফায়ারওয়াল ইন্সটল করা

বর্তমানে আমরা যেসকল অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকি সেগুলোতে ফায়ারওয়াল দেয়াই থাকে। ফলে আমাদের নতুন করে ইন্সটল দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

ফায়ারওয়ালের প্রধান কাজ হচ্ছে আপনার কম্পিউটারে যদি কেউ অনুপ্রবেশ করে তবে এটি আপনাকে জানিয়ে দেবে। অনেকেই এই অপশনটি বন্ধ করে রাখে কিন্তু এটি করা মোটেও উচিৎ নয়।

আপনার ফায়ারওয়াল বন্ধ করা আছে কি না এখনি দেখে নিন। যদি বন্ধ করা থাকে তবে অন করে রাখুন। এতে করে আপনার কম্পিউটারের সিকিউরিটি বৃদ্ধি পাবে।

জাভা ব্যবহারে সতর্কতা

আপনি যদি জাভা ব্যবহার করে থাকেন তবে অবশ্যই আপডেট ভার্সন ব্যবহার করুন। কারণ পুরনো ভার্সনগুলোর সিকিউরিটি অনেক দুর্বল।

যদি পারেন তবে আপডেট করে নিন আর যদি না পারেন তবে পুরনো জাভা ভার্সন ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।

ইনস্টল করুন ফায়ারওয়াল
অধিকাংশ অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গেই দেওয়া থাকে ফায়ারওয়াল। ফায়ারওয়ালের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, কোনো কম্পিউটারের অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কে এটি জানিয়ে দেয়। অপারেটিং সিস্টেমের উপর নির্ভর করে ফায়ারওয়ালের অবস্থান। উইন্ডোজ ৭ অপারেটিং সিস্টেমটিতে ফায়ারওয়াল পাওয়া যাবে কন্ট্রোল প্যানেলে। ফায়ারওয়াল চালু করে সহজেই কম্পিউটার নিরাপদে রাখতে পারবেন ব্যবহারকারী।

Comments are closed.