Friday , October 18 2019
Home / টিপস এন্ড ট্রিকস / বর্তমানে কয় জিবি র‌্যাম আপনার পিসির জন্য যথেষ্ট? দেখুন এখানে

বর্তমানে কয় জিবি র‌্যাম আপনার পিসির জন্য যথেষ্ট? দেখুন এখানে

বর্তমানে বাজারে ৬৪ গিগাবাইট থেকে ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত র‌্যাম পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রতিদিনের কাজের জন্য ঠিক কতটুকু র‌্যামের প্রয়োজন সেটা হয়তো অনেকেই জানেন না। তাই আমি আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম কয়েকটি তুলনামূলক প্রতিবেদন যার মাধ্যমে আপনি নিজেই ঠিক করে নিতে পারেন যে আপনার পিসিতে কত জিবি র‌্যামের প্রয়োজন হবে।

পিসির স্বাভাবিক কাজকর্মগুলো মূলত র‌্যামের গতির উপর নির্ভর করে। যত বেশি র‌্যাম আপনার পিসিতে থাকবে আপনি একই সাথে ততগুলো প্রোগ্রাম চালাতে পারবেন কোনো ল্যাগ ছাড়াই। আর গ্রাফিক্স এর কাজ যারা করেন তাদেরকে অনেক হেভি হেভি প্রোগ্রাম চালাতে হয় আর তাই গ্রাফিক্সের কাজ করা হয় যেসমস্ত পিসিতে সেগুলোতে অন্যদের থেকে একটু বেশিই র‌্যামের প্রয়োজন হয়। আর যারা গেমস খেলেন তাদের কে তো আর নতুন করে র‌্যামের প্রয়োজনীয়তা বলতে হবে না।

বর্তমান যুগের স্ট্যার্ন্ডাড হিসেবে নুন্যতম ৪ গিগাবাইট র‌্যাম আপনার পিসিতে থাকা উচিত। কারণ এখন উইন্ডোজ ১০ বাজারে চলছে আর এই অপারেটিং সিস্টেমটিতে আপনি স্বাভাবিক কোনো কাজকর্ম করতে গেলে আপনার ৪ গিগাবাইট র‌্যাম থাকা জরুরী। না হলে স্বাভাবিক কাজকর্ম যেমন মাইক্রোসফট ওর্য়াডের কাজ কিংবা সাধারণ অপারেটিং কাজকর্মগুলো দেখবেন যে অনেক স্লোতে করা লাগছে আপনার।

আর অন্যদিকে এখন দেশের র‌্যামের বাজার অনেক তুঙ্গে। সম্প্রতি স্মার্ট মোবাইল ডিভাইসগুলোতে DDR3 র‌্যামের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এ বছরে হঠাৎই র‌্যামের দাম তুলনামূলক ভাবে অনেক বেড়ে গিয়েছে। গত বছরেও ৪ গিগাবাইট র‌্যাম যেখানে ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যেত এখন সেটা নিতে হলে কমপক্ষে ৪০০০ টাকার বাজেট আপনার থাকা দরকার।

আপনি গ্রাফিক্স এর কাজ করেন কিংভা গেমার হয়ে থাকেন না কেন কিংবা কম্পিউটারে সাধারণ কাজকর্ম করলেও বর্তমানে ১৬ গিগবাইটের বেশি র‌্যাম একটি কম্পিউটারে লাগে না। তাই বাজেটে থাকলেও ৩২ জিবি বা তার অধিক র‌্যামে এখনই যাওয়াটা বোকামি। কারণ উইন্ডোজ ১০ এ আপনি স্বাভাবিক সকল কার্যক্রম ৪ গিগাবাইট র‌্যামে করতে পারবেন। গেমিং এর জন্য ৮ জিবি র‌্যামেই অনেক গেমারের স্বাদ মিটে যাবে। আর গ্রাফিক্সের কাজের জন্য আপনি সময় বাঁচাতে ১৬ জিবি র‌্যাম লাগিয়ে নিতে পারেন।

তাই আজকের টিউনে আমি তিন ধরনের র‌্যামের সাইজ নিয়ে কথা বলবো। এগুলো হলো ৪ জিবি, ৮ জিবি এবং ১৬ জিবি।  তবে লক্ষ্য রাখবে যে বাজারে র‌্যাম পাওয়া যায় কয়েকটি কোয়ালিটিতে। এগুলোকে DDR দিয়ে বিভক্ত করা হয়। আপনার মাদারবোর্ডের সার্পোটের উপর এই বিভক্ত করণ করা হয়ে থাকে। যেমন একটি DDR3 8GB Ram এর থেকে একটি DDR4 6GB Ram আপনাকে বেশি স্মুথ পারফরমেন্স দিতে পারবে কারণ DDR3 থেকে DDR4 এ ব্যাস স্পিড অনেক বেশি থাকে আর এগুলো দামেও বেশি হয়ে থাকে।

প্রথমেই আসি আপনার পিসির কনফিগারেশনের উপর। আপনার পিসি কনফিগারেশনের উপর অনেক সময় আপনার র‌্যাম বেছে নিতে হয়, তা আপনি পিসিতে যে কাজই করুন না কেন। যেমন আপনি যদি হাই টেক কোর আই ৭ সিস্টেম কিনেন সাথে যদি থাকে হাই এন্ড গ্রাফিক্স কার্ড এবং স্পিডি SSD ড্রাইভ তাহলে আপনাকে অবশ্যই নুন্যতম ৮ গিগাবাইট র‌্যামের দিকে যেতে হবে। সেখানে যদি আপনি ২ গিগাবাইট র‌্যাম লাগান তাহলে ব্যাপার টা হবে এমন যে, একজন বাস ড্রাইভারকে আপনি বিমানে বসিয়ে দিলেন বিমান চালানোর জন্য!

আবার অনেক সময় ঘটনা উল্টেও হয়ে যায়। যেমন ধরুন আপনি একটি কোর আাই ৩ সিস্টেমে শুধুমাত্র অফিসের কাজ করবেন আর সেখানে আপনার ৬ গিগাবাইট র‌্যামে আপনার সকল অ্যাপসকে স্বাভাবিক ভাবে আপনি রান করতে পারছেন এবং আপনার সিস্টেম স্লো হচ্ছে না। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত র‌্যাম ইন্সটল করলে সেটা আপনার পিসির পারফরমেন্স বাড়াবে না। অথ্যার্ৎ সে র‌্যামটুকু অব্যবহৃত রয়ে যাবে এবং এটা স্রেফ টাকার অপচয় হবে।

অ্যাপ্লিকেশন পারফরমেন্স:

আপনার অপারেটিং সিস্টেমটি যদি উইন্ডোজ ১০ হয় এবং আপনি যদি পিসিতে অফিসের বা বাসার বিনোদনের কাজ কম্পিউটার দিয়ে করে থাকেন এবং কোনো প্রকার হেভি লোড কম্পিউটারে না দেন তাহলে ৪ গিগাবাইট র‌্যামে আপনার দিব্যি কাজ হয়ে যাবে।

যেমন পরীক্ষা স্বরুপ একটি ৪ গিগাবাইট র‌্যামযুক্ত উইন্ডোজ ১০ ডেক্সটপ কম্পিউটারে কয়েকটি ওয়েব ব্রাউজার চালু করে প্রায় ডজন খানেকের মতো ট্যাব ওপেন করে, আলাদা ইমেইল ক্লায়েন্ট চালু করলাম, ফটোশপ চালালাম, মাইক্রোসফট ওর্য়াড এবং এক্সেল চালালাম, এছাড়াও ইউটিউবে গান ছেড়ে দিয়ে এন্টিভাইরাইসের স্ক্যানিং শুরু করে দিলাম। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে সিস্টেম অ্যাপস তো চলছেই। এত কিছু করার পরে দেখা গেল যে সিস্টেমে র‌্যামের ব্যবহার ৭০% পর্যন্ত  হয়ে গিয়েছে। অর্থ্যাৎ ৪ গিগাবাইট র‌্যাম দিয়ে আপনি কম্পিউটারে হেভি গেমস এবং গ্রাফিক্সের কাজ বাদে অনান্য সকল কাজই মাল্টিটাস্কিং করতে পারবেন।

এই একই ধাঁচের অ্যাপসের ব্যবহার যদি এখন আপনি একটি ৮ গিগাবাইট র‌্যামের সিস্টেমকে করেন তাহলে তেমন কোনো এক্সট্রা পারমেন্স আপনার চোখে পড়বে না। নিচে Adobe Premier CC কে তিনটি র‌্যাম সিস্টেমে চালিয়ে দেখানো হলো:

চিত্রে Adobe Premier CC এর এনকোডিং সময়কে দেখুন। ৮ জিবি ও ১৬ জিবি র‌্যামের মধ্যে এইটির পাথর্ক্য তেমন বেশি নয়। আবার ৪ জিবি র‌্যাম দিয়েও খুবই ভালো ভাবে এই Adobe Premier এর কাজ আপনি আপনার পিসিতে করতে পারবেন।  এখানে ১৭ মিনিটের একটি ভিডিওকে এনকোডিং করা হয়েছে।

এবার দেখুন ৭ জিপ অ্যাপের ব্যবহার:

৭ জিপ অ্যাপ দিয়ে একটি ফাইলকে কমপ্রেস করার সময় এটি আপনার সিস্টেমের র‌্যামের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করবে। তাই এখানে দেখতে পাচ্ছেন যে যত বেশি র‌্যাম আপনার থাকবে আপনি তত দ্রুত ৭ জিপ অ্যাপ দিয়ে ফাইলস কমপ্রেস করতে পারবেন।

গেমিং পারফরমেন্স:

এবার আসি গেমিং পারফরমেন্সে। বর্তমান যুগের গেমসগুলো বেশ হাই কোয়ালিটির হওয়া বর্তমানে গেমিংয়ের জন্য স্ট্যার্ন্ডাড র‌্যাম হলো ৮ গিগাবাইট। ৮ গিগাবাইট র‌্যাম নিয়ে আপনি আপনার পিসিতে গেমিং এবং নরমাল বাকি সব কাজ স্বাভাবিক ভাবেই করতে পারেন। আবার ১৬ গিগাবাইট র‌্যাম নিলেও আপনি মাল্টিটাস্কিং করেও পুরো ১৬ গিগাবাইট র‌্যাম ইউজ করতে পারবেন না। কেন? নিচে দেখুন:

ব্যাকগ্রাউন্ডে ৬৫টি গুগল ক্রোম ট্যাব ফুল ভাবে লোড দিয়ে জিটিএ ৫ গেমটিকে চালানোর পরেও এখানে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে হাই গ্রাফিক্সে গেমটি ৯ গিগাবাইট র‌্যাম খেয়ে নিলো এবং ব্যাকগ্রাউন্ডোর ৬৫টি গুগল ক্রোম ট্যাব ২.২ গিগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করলো। তাহলে এখানে আপনি পরিস্কার দেখতে পাচ্ছেন যে এই পরিমান হেভি  ডিউটির পরেও টোটাল র‌্যাম ইউজ হলো ৯+২.২ = ১১.২ গিগাবাইট। তার মানে আপনার ১৬ গিগাবাইট র‌্যামের ৪.৮ গিগাবাইট ই অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।  অন্যদিকে আপনার পিসিতে যদি র‌্যামের পাশপাশি হাই এন্ড গ্রাফিক্স কার্ড এবং প্রসেসর থাকে তাহলে দেখতে পাচ্ছেন যে চিত্রে ৮ জিবি র‌্যামযুক্ত গেমিং পিসির সাথে একই কনফিগারেশনের ১৬ জিবি র‌্যামযুক্ত গেমিং পিসির পারফরমেন্সে কোনো পাথর্ক্যই নেই।

পরিশিষ্ট:

আজকের টিউনের শেষে এসে বলা যায় যে, মূল কথা হলো আপনার কাজের ভিক্তিতে আপনি র‌্যাম নির্বাচন করুন। যেমন আপনার অফিস থেকে আপনাকে ৮ জিবি র‌্যামের ল্যাপটপ দেওয়া হলো যেখানে ওয়েব ব্রাউজ এবং মাইক্রোসফট অফিসের কাজ ছাড়া আর তেমন কিছুই করবেন না সেখানে ৮ জিবি র‌্যাম টা একটা অপচয় হবে। আবার অন্যদিকে গ্রাফিক্সের কাজের জন্য আপনি ৪ জিবি র‌্যামের পিসিকে গ্রাফিক্স অ্যাপস চালাতে গেলে কস্ট কাকে বলে সেটার উত্তর যথাযথ ভাবেই পেয়ে যাবেন, অনেক সময় থ্রিডি মডিউল আপনার র‌্যামে লোড নাও নিতে পারে।

তো আপনার পিসিতে ৪ গিগাবাইট র‌্যাম থাকলেই এ যুগের জন্য সেটা যথেষ্ট। আর তা না থাকলে আপনার ৪ গিগাবাইট র‌্যামে আপগ্রেড করাটা জরুরি। আর অন্যদিকে আপনি যদি গ্রাফিক্সের কাজ করেন কিংবা গেমিংয়ে থাকেন তাহলে ৮ গিগাবাইট আপনার জন্য পারফেক্ট। তবে সামনের ২/৩ বছর র‌্যাম আপগ্রেড করার ইচ্ছে না থাকলে কিংবা আপনার মাদারবোর্ডে র‌্যাম স্লট না থাকলে আপনি বাজেটে থাকলে ১৬ জিবি র‌্যাম লাগিয়ে নিতে পারেন তবে এ যুগে ১২ জিবির বেশি র‌্যাম আপনি ইউসেজ করতে পারবেন না তবে বলা যায় অদূর ভবিষ্যৎতে আমাদেরকে ১৬ জিবির র‌্যাম স্ট্যান্ডার্ড করা হতে পারে। তবে তাই বলে ৩২ গিগাবাইট র‌্যামে মুভ করাটা বর্তমান যুগ এবং আগামী কয়েক বছরের জন্যেও হবে শ্রেফ বোকামি আর টাকার অপচয়।

উল্লেখ্য যে আমার আজকের এই টিউনটি ঘরোয়া পরিবেশের কম্পিউটারের জন্য প্রযোজ্য। যারা এডভান্স কম্পিউটিং লাইনে রয়েছেন যেমন যারা ভাচুর্য়াল মেশিন নিয়ে গবেষনা করেন কিংবা যারা AI নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তাদের জন্য চাই প্রচুর প্রচুর র‌্যাম (৩২ গিগাবাইটের উপ্রে)।

তাই শেষ কথা হলো এই, আপনি যদি নরমাল পিসি কিনেন বা নরমাল পিসি যদি আপনার থাকে তাহলে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার পিসিতে ৪ গিগাবাইট র‌্যাম রয়েছে। আর আপনি যদি গেমিং পিসি নেন তাহলে ৮ গিগাবাইট র‌্যাম হলেই আপনার যথেষ্ট। আর আপনি যদি হাই এন্ড পিসি নিতে চান বা আপগ্রেড করতে চান তাহলে ১৬ গিগাবাইট র‌্যামে চলে যেতে পারেন।

Check Also

নির্দিষ্ট সময়ে পিসিকে যেভাবে অটো শাট ডাউন করবেন

বর্তমান যুগ অটোমোশনের যুগ। কম্পিউটারের প্রায় সব কাজকেই এখন অটোমোশনের আওতায় নিয়ে আশাকরি এবং বন্ধ …