Powered by Ajaxy
Feb 24, 2020
502 Views
Comments Off on পুলিশ বা হ্যাকাররা যে পদ্ধতিতে মোবাইল ট্র্যাক করে

পুলিশ বা হ্যাকাররা যে পদ্ধতিতে মোবাইল ট্র্যাক করে

Written by

যারা হলিউড মুভি দেখেন তারা হাজারো বার দেখে থাকবেন যে সেলফোন ট্র্যাক করার মাধ্যমে পুলিশ অপরাধীদের খুঁজে বের করে। আবার অনেক অপরাধী অপরাধ করার পরে তাদের লাখো টাকা দামের ফোন পানিতে ফেলে দেয় শুধুমাত্র ট্র্যাক না হওয়ার জন্য। শুধু অপরাধীদের খুঁজে পেতে নয়, আপনার দামী ফোনটি হারিয়ে গেলেও ট্র্যাকিং প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। কিন্তু পুলিশ কি সত্যিই আপনার ফোন আপনাকে খুঁজে দিতে সক্ষম, অথবা ফোন ট্র্যাক করে সত্যি অপরাধী পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব? আজকের টিউনে সেলফোন ট্র্যাকিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং জানব কিভাবে পুলিশ অপরাধীদের খুঁজে বের করে। চলুন শুরু করা যাক।

সেলফোন ট্র্যাকিং সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে,  সেলফোন কীভাবে কাজ করে সেটা ভালোমত বোঝা দরকার। আমাদের দেশে মূলত একমাত্র পুলিশ সেলফোন ট্র্যাকিং এর বৈধতা রাখে। আপনি আমি চাইলে যেকোনো ফোন ট্র্যাক করার অধিকার রাখি না। বেশিরভাগ সময়, আমাদের দেশে ট্র্যাকিং করার সময় পুলিশ সেলফোন অপারেটরের সাহায্য গ্রহন করেন। পুলিশ অপরাধীর নাম্বারের কল রেকর্ড, রেজিস্ট্রেশন নেম, ফোনের সর্বশেষ লোকেশন জানতে চায়। যদি অপরাধী তার আশাকরিয়ে থাকে, তবে তাকে সনাক্ত করতে আর দেরি লাগে না, তাছাড়া অপরাধীর কল রেকর্ড থেকে সে কাকে কাকে বেশি কল করেছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করেও অপরাধীর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

প্রথমে পুলিশের কাছে থাকা নাম্বার থেকে অপরাধীর ফোনের আইএমইআই (IMEI) নাম্বার বের করে নেওয়া হয়। আপনি যে অপারেটরের সিম ব্যবহার করছেন, আপনার অপারেটরের কাছে আপনার ফোন সম্পর্কে তথ্য রয়েছে এবং অবশ্যই আপনার ফোনের আইএমইআই নাম্বার রয়েছে। আইএমইআই নাম্বারকে কোন ফোনের ফিঙ্গার প্রিন্টও বলতে পারেন, কেনোনা আপনার ফোন ব্যবহার করে আপনি যেখানেই কল করুন না কেন, সেখানেই আপনার আইএমইআই তথ্য চলে যায়।

এখন পুলিশ সকল অপারেটরের কাছে অপরাধীর পাওয়া ফোনের আইএমইআই নাম্বার জানিয়ে জিজ্ঞাসা করবে যে এই আইএমইআই নম্বরযুক্ত ফোন তাদের অপারেটরে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা। যদি কোন অপারেটরে সেই আইএমইআই এর ফোন পাওয়া যায়, তবে সেই ফোনে ব্যবহৃত বর্তমান নাম্বারও পুলিশকে দিয়ে দেওয়া হয়। আর পুলিশ যখন অপরাধীর বর্তমান ব্যবহৃত নাম্বার পেয়ে যায়, তো বলতে পারেন ৫০% কাজ শেষ।

এবার হয়তো আপনি ভাবছেন, যদি ফোনকে অপরাধী এয়ারপ্লেন মুডে রাখে তাহলে? —আপনাকে জানিয়ে রাখি, সেলফোন অপারেটিং সিস্টেমের দুইটি দিক থাকে, একটি দিক যেটা আপনার ফোন এবং নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্টেড হয় এবং আরেকটি দিক হলো আপনার ফোনের ইউজার ইন্টারফেস। ইউজার ইন্টারফেসে যতোই দেখাক, আপনার ফোনটি এয়ারপ্লেন মুডে রয়েছে, কিন্তু আপনার ফোনটি তারপরেও নেটওয়ার্ক থেকে পিং গ্রহন করে। আর সেলফোন অপারেটর চাইলে সেই সময়ও ফোনের লোকেশন খুঁজে বের করতে পারে।

সেলফোন ট্র্যাকিং এর ক্ষেত্রে আপনার ফোনে থাকা জিপিএস অনেক বেশি সহায়ক হিসেবে কাজ করে। অপরাধী যদি কোন স্মার্টফোন ব্যবহার করে আর তাতে যদি জিপিএস লাগানো থাকে তবে পুলিশের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। জিপিএস থাকলে সেল অপারেটরের সাথে যোগাযোগ না করেও ফোনের লোকেশন পাওয়া সম্ভব। পুলিশের কাছে কিছু সিস্টেম সেটআপ থাকে যার মাধ্যমে তারা ফোনের জিপিএস থেকে অ্যাক্সেস নিয়ে লোকেশন ট্র্যাক করে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের পুলিশ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে জিপিএস ট্র্যাকিং করে। বড় বড় দেশের কাছে সরাসরি স্যাটেলাইট অ্যাক্সেস থাকে, ফলে তারা সহজেই তথ্য পেয়ে যায় যে ফোনটি ঠিক কোন জিপিএস স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল গ্রহন করছে। তারপরে সেই স্যাটেলাইটের সূত্র ধরে অপরাধীকে খুঁজে বের করা হয়।

আমাদের দেশের পুলিশ সাধারনত দুইভাবে জিপিএস ট্র্যাকিং করে।

প্রথমত, অপরাধীর ফোনটি যদি স্মার্টফোন হয়, তবে স্বাভাবিকভাবে সেটি হয়তো অ্যান্ড্রয়েড হবে, তখন পুলিশ এতে থাকা গুগল আইডিতে অ্যাক্সেস পাওয়ার চেষ্টা করে। গুগল একাউন্টে আপনার ফোনের লোকেশন হিস্টোরি সেভ করা থাকে তাই গুগল অ্যাকাউন্টের উপর কন্ট্রোল পেয়ে গেলে সেলফোন ট্র্যাকিং সহজ হয়ে যায়।

যদি গুগল অ্যাকাউন্ট কন্ট্রোলে আনা সম্ভব না হয়, তবে আবার সেল অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করা হয়। প্রত্যেকটি জিপিএস ওয়ালা ফোনে আরেকটি অপশন থাকে যেটা এ-জিপিএস নামে পরিচিত। ধরুন আপনি এমন জায়গায় রয়েছেন যেখানে পর্যাপ্ত পরিমানে জিপিএস স্যাটেলাইট নেই যা থেকে আপনার লোকেশন নির্ভুল করার বের করা যায়, তখন আপনার ফোন এ-জিপিএস এর সাহায্য নেয়। এ জিপিএস ব্যবহার করেই সেলফোন অপারেটররা অপরাধীর অবস্থান শনাক্ত করে এবং সেটা পুলিশকে সরবরাহ করে।

এছাড়াও আপনি যতো লেটেস্ট সেলফোন টেকনোলজি ব্যবহার করবেন, ততোই দ্রুত আপনাকে ট্র্যাক করা সম্ভব হবে। যেমন আপনি যদি ৪জি ব্যবহার করেন, তবে আপনার একদম সঠিক লোকেশন পাওয়া সম্ভব। আপনি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হলে তো আপনাকে সেকেন্ডেই শনাক্ত করে ফেলা যাবে।

Comments are closed.