Friday , October 18 2019
Home / Android apps/tips / অ্যান্ড্রয়েড সিকুরিটির জন্য যা যা করতে পারেন আপনি

অ্যান্ড্রয়েড সিকুরিটির জন্য যা যা করতে পারেন আপনি

আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যান্ড্রয়েডের থেকে একটি বিষয়ে সবসময়ই এগিয়ে থাকেন আর তা হলো সিকুরিটি। হ্যাঁ নিরাপত্তা জিনিসটা আপনি অ্যান্ড্রয়েডের থেকে আইফোনে বহুগুণে বেশি পাবেন। তাই বলে কি এখন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করা বন্ধ করে দেবেন? অবশ্যই না। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন দুটি দুই রকমের। তাই আজ আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম অ্যান্ড্রয়েড এর সিকুরিটি নিয়ে একটি টিউন। আজকের টিউনে আমি দেখাবো কিভাবে আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েডের সিকুরিটি কয়েকগুণ বাড়িয়ে নিতে পারেন।

তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে সরাসরি টিউনে চলে যাই:

গুগল প্লে প্রটেক্ট

আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে OS আপগ্রেডিং করার পর কিংবা নতুন ডিভাইসগুলোতে এই ফিচারটি আগে থেকেই দেওয়া থাকে। তবে অন্যকেউ যদি এটা বন্ধ করে রাখে তাহলে এটা আপনার এক্ষুনি অন করে নেওয়া উচিত। কারণ Google Play Protect হলো অ্যান্ড্রয়েডের একটি native সিকুরিটি সিস্টেম এটি আপনার অ্যান্ড্রয়েডে সবসময় রানিং অবস্থায় থাকবে আর কিছুসময় পর পর আপনার ফোনের এপপসগুলোকে স্ক্যান করে নিবে আর এপপসগুলোর ব্যবহারিক আচরণ অস্বাভাবিক হলে সাথে সাথে আপনি একটি ওয়ার্নিং বার্তা দেখাবে এই google play protect টি।

আপনার ডিভাইসে গুগল প্লে প্রক্টেশন অপশনটি চালু রয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিন্ত হবার জন্য আপনার ডিভাইসের সেটিংস থেকে Security বা  Security & Location সেক্টর থেকে Google Play Protect অপশনটি চালু রয়েছে কিনা তা দেখে নিন। এবং এর ভিতরের অপশনগুলোও ঠিকঠাক ভাবে অন রয়েছে কিনা সেটাও দেখে নিতে পারেন।

ফাইন্ড মাই ডিভাইস

যদি আপনি আপনার অফিসে বা বাসায় কোথায় মোবাইলটিকে হারিয়ে ফেলেন বা আপনার ডিভাইসটি যদি সত্যিকার ভাবেই চুরি হয়ে থাকে তাহলে মনে রাখবেন যে অ্যান্ড্রয়েডে বাই ডিফল্ট একটি অপশন রয়েছে যেটির মাধ্যমে আপনি একটি কম্পিউটারের সাহায্যে আপনার চুরি হয়ে যাওয়া ডিভাইসে খুঁজে বের করতে, রিং দিতে, লক করে দিতে এমনকি দূর থেকেই আপনার ডিভাইসের ডাটাগুলোকে ফ্ল্যাশ মেরে দিতে পারেন যদি কোনো প্রাইভেট তথ্য ডিভাইসে থেকে থাকে।

গুগল প্লে প্রক্টেক এর মতোই এই Android Find My Device ফিচারটি ডিফল্ট ভাবে আপনার ডিভাইসে একটিভ থাকার কথা। ব্রান্ডের ডিভাইসে এটি সহ গুগলের অ্যান্ড্রয়েডের সকল সিকুরিটি ফিচার অটো একটিভ থাকে। তবে সিম্ফোনি, ওয়ালটন বা অনান্য কাস্টম ফোনে এগুলো অটো একটিভ নাও থাকতে পারে। এটি একটিভ রয়েছে কিনা সেটা আপনাকে নিজে থেকে চেক করে নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন। এর জন্য আপনার ডিভাইসের সেটিংস মেনু থেকে সিকুরিটির আন্ডারে Find My Device অপশনটি একটিভ না থাকলে সেটা একটিভ করে নিন।

পিসি থেকে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটি খুঁজে বের করার জন্য ব্রাউজারে গিয়ে লিখুন http://android.com/find আর সেখান থেকে আপনার জিমেইল একাউন্টে ঢুকেই আপনি আপনার ডিভাইসের লোকেশন গুগল ম্যাপে দেখতে পারবেন। এছাড়াও ডাবল ব্যাকআপ হিসেবে এর আলাদা একটি এপপ পাওয়া যায় যেটির মাধ্যমে অন্য অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসকে ব্যাকআপ হিসেবেও আপনি সেট করে রাখতে পারবেন।

স্মার্টলক

আপনার ডিভাইসে যতই সিকুরিটি ফিচার দিয়ে দেওয়া থাক না কেন এটি তখনই কাজে লাগবে যখন আপনি এই সমস্ত ফিচারকে ব্যবহার করবেন তখন। ধরুন আপনার ডিভাইসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেসলকিং সিস্টেম রয়েছে কিন্তু আপনি আদৌ তা ব্যবহারই করলেন না তাহলে এটি আর অন্য সাধারণ ডিভাইসের মতোই সিকুরিটির দিক থেকে হয়ে থাকবে। ঠিক এমনই একটি ফিচার হলো অ্যান্ড্রয়েডের স্মার্টলক ফিচার। এটি একটি ইউনিক লকিং সিস্টেম। এটি আপনার বডির কাছাকাছি কিংবা একমাত্র আপনার হাতে আসলেই অটো আনলক হয়ে থাকবে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় এলে যেমন আপনার অফিস কিংবা আপনার বাসার রুমে এলে আনলক হয়ে থাকবে, এছাড়াও এখানে আপনি ফেস লক এবং ভয়েস লকিং সিস্টেমগুলোও পাবেন।

এই ফিচারটি চালু করার জন্য আপনার সিস্টেম সেটিংস থেকে সিকুরিটি অপশন এ গিয়ে Screen Lock অপশনটির মধ্যে পেয়ে যাবেন। এখান থেকে আপনার জন্য উপযুক্ত স্মার্টলক ফিচারটি একটিভ করে নিতে পারেন।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সিস্টেম

এটি মূলত একটি গুগল একাউন্ট ফিচার, নির্দিষ্ট করে অ্যান্ড্রয়েড ফিচার নয়। কিন্তু যেহেতু আপনি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটিকে গুগল একাউন্টের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে চালাচ্ছেন সেক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসকেও এই টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সিস্টেম এর আওতায় নিয়ে আসতে পারেন। যেমন আপনার জিমেইলে এখন কেউ পাসওর্য়াড জেনে থাকলেও ঢুকার সময় আপনার ডিভাইসের সাহায্য নিয়ে কিংবা আপনার মোবাইলে সিকুরিটি কোড এসএমএস এর মাধ্যমেই ঢুকতে পারবে।

আর আপনার জিমেইল একাউন্টে যদি টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সিস্টেম সেট করা না থাকে তাহলে এক্ষুনি এটিকে চালু করে নিতে চলে যান আপনার ডিভাইসের সিস্টেম সেটিংস এ আর সেখান থেকে Sign-in & Security থেকে 2-step Verification অপশনে ক্লিক করে ধাপগুলো অনুসরণ করে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সিস্টেমটি একটিভ করে নিন।

সেইফ ব্রাউজিং

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোর ডিফল্ট ব্রাউজার হিসেবে গুগল ক্রোম দিয়ে দেওয়া থাকে। আর ক্রোমের একটি ডিফল্ট সিকুরিটি ফিচার হলো সেইফ ব্রাউজিং। অর্থ্যাৎ ক্রোম দিয়ে আপনি নিশ্চিন্তে ব্রাউজিং, অনলাইন টান্সসেক্টশন কিংবা অনলাইনে ব্যাকিংয়ের কাজ করতে পারবেন আপনার ব্রাউজিং সিকুরিটির জন্য এই সেইফ ব্রাউজিং সিস্টেমটি অটো অন করা থাকবে। এছাড়াও আপনি এই সেইফ ব্রাউজিংটি অন রয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত হবার জন্য আপনার ডিভাইসের ক্রোম এপের সেটিংস থেকে Privacy সেকশনে গিয়ে Safe Browing একটিভ রয়েছে কিনা সেটা চেক করে নিতে পারেন।

স্ক্রিণ পিনিং

এই Screen pinning অপশনটি ২০১৪ সালের ললিপপ আপগ্রেডের সাথে গুগল অ্যান্ড্রয়েডে এনেছিলো কিন্তু তখন থেকেই এটি নিয়ে তেমন নাড়াচাড়া করা হয়নি। তাই এই ফিচারটি অনেকটাই আড়ালে পড়ে গিয়েছে।

এই স্ক্রিণ পিনিং এর মাধ্যমে আপনি একটি নির্দিস্ট এপপকে চালু রেখে দিতে পারেন এবং অনান্য এপপস বা উক্ত এপপস থেকে বের হয়ে গেলে পাসওর্য়াড বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথেনটিকেশন চাইবে। এই পন্থায় আপনি আপনার ডিভাইসকে কোনো বন্ধুর কাছে দিতে পারেন যাতে সে উক্ত এপপস ছাড়া আপনার অগোচরে অন্য কোনো ফাংশনে যেতে না পারে।

এই অপশনটি ব্যবহার করার জন্য আপনার ডিভাইসের সেটিংস মেনু থেকে Securiy সেকশনে চলে যান এবং সেখান থেকে Screen Pinning অপশনটি খুঁজে বের করে নিন। আর এটি একটিভ করার পর Ask for unlock pattern before unpinning টি টিক চিহ্ন সহ দিয়ে নেবেন।

পরিশিষ্ট

আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন আজকের টিউনে আমি গুগলে ডিফল্ট এবং নিজস্ব কিছু সিকুরিটি ফিচার নিয়ে আলোচনা করেছি। এখানে কোনো থার্ড পার্টি সিকুরিটি এপপস বা অনান্য কোনো এপপস নিয়ে কথা বলিনি। কারণ আপনি যখন এই গুগলের সিকুরিটি ফিচারের বদলে অন্য এপপসের সিকুরিটি ফিচার গ্রহন করতে যাবেন তখন উক্ত এপপটিকে আপনি আপনার ডিভাইসের প্রায় সবকিছুতেই একসেস এর পারমিশন দিয়ে দিচ্ছেন।

আর একটি বাইরের এপপসকে আপনার ডিভাইসের সিকুরিটি ইনচার্জ হিসেবে বসিয়ে রাখাটাও একটি সিকুরিটি হানির মতোই আমার কাছে মনে হয়। কারণ যে এপপটির সিকুরিটির ফিচারটি আপনি উপভোগ করছেন সেটির নিজে থেকে আপনার ডিভাইসকে সিকুরিটি এট্যাক করবে না এটার কোনো গ্যারান্টি আপনি দিতে পারবেন?

সেটার জন্যই গুগলের নির্দিষ্ট ও ডিফল্ট সিকুরিটি ফিচার আজকের টিউনে আমি উপস্থাপন করলাম। আর হ্যাঁ অনেকেই কম্পিউটারের মতো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের বিভিন্ন ব্রান্ডের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করে থাকেন এগুলো এককথায় ফাউল আর অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।

Check Also

গুগলে যে ১০ জিনিস খুঁজবেন না

কোনো তথ্য দরকার? হুটহাট করেই গুগলের সার্চ বক্সে গিয়ে সে বিষয়ে খোঁজ করা শুরু করেন …