Thursday , December 12 2019
Home / টিপস এন্ড ট্রিকস / ওয়াই ফাই সিকুরিটি সম্পর্কে জানেন তো? You know about WiFi Security

ওয়াই ফাই সিকুরিটি সম্পর্কে জানেন তো? You know about WiFi Security

বাসায় কিংবা অফিসে বা ব্যবসায় ক্ষেত্রে আমরা যারা ব্রডব্যান্ড লাইট সংযোগ ব্যবহার করি তাদের ম্যাক্সিমামই লাইনের সাথে একটি ওয়াই ফাই রাউটার ব্যবহার করে থাকি নেট সংযোগকে ওয়াই ফাইয়ের মাধ্যমে শেয়ার করার জন্য। আর এই ওয়াই ফাই সেটিং করার সময় সিকুরিটির ক্ষেত্রে WPA, WPA2, Open, WEP 64 সহ বিভিন্ন ধরন দেখতে পাই। এদের সঠিক ব্যবহার না করলে ওয়াই ফাইয়ের স্পিড এবং একই সাথে ওয়াই ফাইয়ের পাসওর্য়াড লিক বা হ্যাক হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়! তাই আজকের টিউনে আমি ওয়াইফাইয়ের সিকুরিটি নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি। অবশ্য বেশি কিছু আলোচনার মতো নেই তবুও যারা এই বিষয়টি নিয়ে জানেন না তারা আজকের টিউনটিকে এক নজরে দেখে নিতে পারেন।

কোনো ওয়ারলেস কানেক্টশন সেটআপ করার সময় আপনি সাধারণত Wired Equivalent Privacey (WEP), Wi-Fi Protected Access (WPA), Wi-Fi Protected Access II (WPA2) এই তিনটি প্রাইমারি সিকুরিটি এলগোরিদমকে দেখতে পাবেন। এদের মধ্যে WEP এলগোরিদম হচ্ছে সবথেকে পুরোনো এবং আউটডেটেড পদ্ধতি, এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে রাউটার হ্যাক হবার সম্ভাবনা অনেকগুণ।

অন্যদিকে WPA সিকুরিটি সিস্টেম আপগ্রেড করলেও হালকা চেস্টা করেও এর সিকুরিটি ব্রিচ করা যায়! আর WPA2 পারফেক্ট না হলেও বর্তমানে সবথেকে বেশি সিকিউর চয়েজ এবং বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। WPA2 এলগোরিদমে Temporal Key Integrity Protocol (TKIP) এবং Andvanced Encryption Standard (AES) নামের দুটি ভিন্ন এনক্রিপ্টশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নিচে এই দুটি নিয়ে হালকা আলোচনা করা হলো:

AES বনাম TKIP

AES এবং TKIP হচ্চে দুটি ভিন্ন এনক্রিপ্টশন সিস্টেম যেটা ওয়াই ফাই নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। TKIP হচ্ছে পুরাতন মডেল যেটা WPA সিস্টেমে ব্যবহৃত হত। তাই বর্তমান যুগে TKIP ব্যবহার করা হবে বোকামি!

অন্যদিকে AES হচ্ছে একটি সিকিউর এনক্রিপ্টশন প্রোটোকল যেটা WPA2 সিস্টেমের সাথে উদ্ভাবিত হয়েছে। AES এনক্রিপ্টশনটি এতই সিকুরিটি প্রদান করতে সক্ষম যে খোদ মার্কিন সরকারের কম্পিউটার ব্যবস্থায় এই এনক্রিপ্টশন প্রোটোকলটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাহলে বলা যাচ্ছে যে TKIP হচ্ছে পুরাতন এবং আউটডেটেড এনক্রিপ্টশন সিস্টেম আর AES হচ্ছে নতুন এবং যুগোপযোগী এনক্রিপ্টশন প্রোটকল। তবে আপনার রাউটারের মডেলের উপর এর সিকুরিটি নির্ভর করবে। কারণ WPA2 সিস্টেম সিলেক্ট করার পরেও রাউটারের পুরাতন মডেলের জন্য এটি TKIP প্রোটোকলও ব্যবহার করতে পারে খাপ খাওয়ানোর জন্য এবং এটা আপনার রাউটারের সিকুরিটির জন্য মোটেই ভালো দিক নয়।

ওয়াই ফাই সিকুরিটি মোডস:

এবার মূল টিউনে চলে আসি। কোনো ওয়াই ফাই নেটওর্য়াক তৈরি করার সময় আপনি কিছু নির্দিষ্ট প্রকারের ভিন্ন ভিন্ন সিকুরিটি অপশন পাবেন আপনার রউটারের মডেল এবং ক্ষমতা অনুযায়ী। কনফিউজ না হয়ে নিচের প্রকারভেদগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিন:

১) Open(risky):

এই অপশনটি সিলেক্ট করলে আপনার ওয়াই ফাই কানেক্টশনটি Open Wi-Fi Network হিসেবে সেট হবে এবং এতে কোনো প্রকার সিকুরিটি এবং পাসওর্য়াড সিস্টেম থাকবে না। সাধারণত ওপেন ওয়াই ফাই সেট করা উচিৎ নয়।

২) WEP 64 (risky):

এটি হচ্ছে ওয়াই ফাই সিকুরিটির সর্বপুরাতন WEP Protocol এর একটি সংস্করণ। এই পদ্ধতিকে নেটওয়ার্ক হ্যাক করা এখন ১/২ এর ব্যাপার তাই এটি ব্যবহার না করাই উত্তম।

৩) WEP 128 (risky):

এটাও WEP, তবে এটায় রয়েছে বৃহৎ এনক্রিপ্টশন কী সাইজ। তবে সিকুরিটির দিক থেকে এটিও ব্যবহার যোগ্য নয়।

৪) WPA-PSK (TKIP):

এই মোডটি WPA প্রোটোকলের অরিজিনাল সংস্করণটি ব্যবহার করে। কালের বিবতর্নে WPA2 প্রোটোকল এসে পড়ায় এটিও আউটডেটেড এবং ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

৫) WPA-PSK (AES):

এটিও অরিজিনাল WPA প্রোটোকল ব্যবহার করে তবে এখানে TKIP এনক্রিপ্টশনের পরিবর্তে মর্ডান AES এনক্রিপ্টশন ব্যবহার করা হয়।

৬) WPA2-PSK (TKIP):

এটি হচ্ছে মর্ডান WPA2 স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করে কিন্তু এতে পুরোনো TKIP এনক্রিপ্টশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিকে সিকুরিটি ভালো পাবেন না তবে আগের দিনের ডিভাইসগুলো যেগুলো WPA2-PSK (AES) প্রোটোকল সাপোর্ট করে তাদের জন্য এই স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করতে হয়।

৭) WPA2-PSK (AES):

এটি বর্তমানের মোস্ট সিকিউরড ওয়াই ফাই নেটওর্য়াকিং সিস্টেম। এটাতে লেটেস্ট ওয়াই ফাই এনক্রিপ্টশট স্ট্যান্ডার্ড WPA2  এবং লেটেস্ট AES এনক্রিপ্টশন প্রোট্রোকলটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই আপনার ওয়াই ফাই রাউটারের সেটিংয়ে অবশ্যই এই অপশনটি ব্যবহার করবেন!

৮) WPAWPA2-PSK (TKIP/AES):

কোনো কোনো ওয়াই ফাই রাউটারে এই মিশ্র সিকুরিটি অপশন ব্যবহারের সুযোগ দেখা যায়।  এই অপশন ব্যবহার করলে আপনি WPA এবং WPA2 দুটিকেই এবং TKIP ও AES দুটোকেই এক সাথে ব্যবহৃত করতে পারবেন। এটায় ম্যাক্সিমাম সিকুরিটির সাথে সাথে ম্যাক্সিমাম কম্পাবিলিটি দেওয়া থাকে। তবে এতে WPA থাকায় সহজে সিকুরিটি ব্রিচ বা হ্যাক করা যায় বিধায় এটিও ব্যবহার না করাই উত্তম!

২০০৪ সালে WPA2 সার্টিফিকেশন সিস্টেমটি চালু হয় এবং আজ থেকে ১১ বছর আগে ২০০৬ সাল থেকে WPA2 সার্টিফিকেশনকে মেন্ডাটরি হিসেবে ধরা হয়। তাই ২০০৬ সালের পরের যেকোনো ওয়াই ফাই ডিভাইসে WPA2 এনক্রিপ্টশন সিস্টেমটি সাপোর্ট করবে।

তাই নিশ্চিন্তে আপনি আপনার ওয়াই ফাই কানেক্টশনে WPA2 সিকুরিটি সিস্টেমটি ব্যবহার করতে পারেন। একমাত্র ব্রুট ফোর্স হ্যাকের মাধ্যমেই এই WPA2 সিস্টেমটি হ্যাক করা যায়! বিশেষ বড় সড় প্রতিষ্ঠান না হলে সাধারণত হ্যাকাররা এই ব্রুট ফোর্স হ্যাকটি ব্যবহার করে না। কারণ এই হ্যাক সিস্টেমটি কার্যকর করতে অনেক সময় এবং পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়।

যদি আপনার রাউটার বা ডিভাইসটি WPA2 সিস্টেমটি সার্পোট না করে তাহলে সিকুরিটির জন্য আমি বলবো আজই ডিভাইসটি ফেলে দিন এবং নতুন মডেলের ডিভাইস কিনে আনুন! 😆

Check Also

মোবাইল ফোনের কারণে কি ক্যান্সার হতে পারে?

না, আজ পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণ করা যায় নি যে মোবাইল এর কারণে ক্যানসার …